হোম গজারিয়া গজারিয়ায় নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌডাকাত বাহিনীর তৎপরতা; আতঙ্কে এলাকাবাসী

গজারিয়ায় নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌডাকাত বাহিনীর তৎপরতা; আতঙ্কে এলাকাবাসী

কর্তৃক Editor Editor
০ মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন জনপদ গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুর্ধর্ষ নৌডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সশস্ত্র এই ডাকাত দলের সদস্যরা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করতে পারে বলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীবেষ্টিত গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে ‘নয়ন ও পিয়াস’ বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, মালবাহী নৌযানে ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র কারবারসহ অসংখ্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি এই বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় ফিরে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় জামালপুর গ্রামের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় প্রায় পাঁচশত পরিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে না। বাহিনী প্রধান নয়ন ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পিয়াস বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও তাদের সহযোগী খোকন, গোলজার, রাসেল, বাবু, সোহরাব ও শাহাদাতসহ অন্য সদস্যদের এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে।
এই বাহিনীর নির্যাতনের শিকার কাইয়ুম দেওয়ানের ছোট ভাই মাঈনুদ্দীন দেওয়ান বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য চলতি মাসের ৬ ফেব্রুয়ারি তারা আমার ভাই কাইয়ুম দেওয়ানকে গুলি করে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তার একমাত্র অপরাধ ছিল তিনি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বাড়িভাড়া দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ নৌডাকাত নয়নের ছেলে ও কিশোর গ্যাং লিডার নীরবের ঘরে অভিযান চালিয়ে একটি শুটার গানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।”
জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, “বিগত নির্বাচনগুলোতে আমরা দেখেছি নয়ন-পিয়াস বাহিনীর সশস্ত্র ক্যাডাররা নির্দিষ্ট একটি পক্ষের হয়ে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে কেন্দ্র দখল করে নেয়। তাদের অস্ত্রের মুখে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। এবারও তাদের হাতে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখা যাচ্ছে; কেন্দ্রে যাব কি না, তাই ভাবছি।”
আরেক বাসিন্দা ফুলমতি বেগম প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন আমাদের বারবার আশ্বস্ত করলেও আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না। সরকার যদি চায় আমরা ভোট দেই, তবে বাহিনীর প্রধান নয়ন ও তার প্রধান সহযোগী পিয়াসসহ সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্যাতনের শিকার এক ব্যক্তি দাবি করেন, এই বাহিনীর কাছে শতাধিক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পে হামলা কিংবা পুলিশের সাথে গোলাগুলি তাদের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই অবস্থায় তারা প্রাণভয়ে ঘর থেকে বের হতেও শঙ্কিত।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। এবার নির্বাচনে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। আমি সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন।” গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “এবার নির্বাচন উপলক্ষে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপি অথবা অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন তবে তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে আমাদের জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।”

মতামত দিন


দৈনিক মুন্সীগঞ্জের কাগজ সম্পর্কে

সম্পাদকঃ মোহাম্মদ আরফিন
হিমা বেগম কর্তৃক দৈনিক মুন্সীগঞ্জের কাগজ লিমিটেড-এর পক্ষে মিতু প্রিন্টিং প্রেস, ২০/এ, নয়াপল্টন,ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং মুন্সীগঞ্জ এসপি অফিস সংলগ্ন হোয়াইট হাউজ, ৩য় তলা, মুন্সীগঞ্জ সদর, মুন্সীগঞ্জ হইতে প্রকাশিত।
ঢাকা অফিসঃ ৬১ ডি আই টি রোড (৫ম তলা ) পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭
ফোনঃ +৮৮০১৭২৭৩৭৬৬৭৭, +৮৮০১৭০৬৯৭০০৩৭, +৮৮০১৭০৬৯৭০০৩৬, +৮৮০১৭০৬৯৭০০৩৮
ই-মেইলঃ munkagoj@gmail.com