নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বনভূমির জবরদখল রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কঠোর আর্থিক দন্ডের বিধান রেখে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শাখা থেকে গতকাল মঙ্গলবার এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। অধ্যাদেশটি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। আজ বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার এ কথা জানান। এই নতুন আইনের আওতায় অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বা নিষিদ্ধ গাছ কাটলে, ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি ‘বনভূমির ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, বনভূমির দখল প্রতিরোধ, বন ও বনভূমি যথাযথভাবে সংরক্ষণ, বনভূমির পরিমাণ হ্রাস রোধকল্পে এবং বৃক্ষ সংরক্ষণে বিধানকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি বা গণ-পরিসরের যে কোনো গাছ কাটতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (বৃক্ষ সংরক্ষণ কর্মকর্তা) পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমির বিশেষ কিছু প্রজাতির গাছ কাটার ক্ষেত্রেও বন বিভাগের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে এতে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রাকৃতিক বনভূমিকে এখন থেকে আর বন-বহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। নতুন এই আইনে অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত কর্তন নিষিদ্ধ তালিকার কোনো গাছ কাটলে, এ আইনে আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড দিতে পারবেন। এছাড়া সাধারণ অনুমতি সাপেক্ষে, তালিকায় থাকা গাছ অনুমতি ছাড়া কাটলে ৫০ হাজার টাকা এবং গাছের গায়ে পেরেক বা ধাতব বস্তু লাগিয়ে এর ক্ষতিসাধন করলে ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা এই আইন লঙ্ঘন করলে, এ আইনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে আদালতকে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় অপরিহার্য প্রয়োজনে যদি কোনো বনভূমি বন-বহির্ভূত কোন কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন’ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বনের সীমানা নির্ধারণে প্রযুক্তি নির্ভর মনিটরিং ও দখলদার উচ্ছেদে বন বিভাগকে এতে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এতে বিশেষ শিথিলতাও রাখা হয়েছে। রোগাক্রান্ত, মৃত, ঝড়ে পড়া বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তি মালিকানাধীন গাছ কাটার ক্ষেত্রে আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত বন অধিকার যাতে ক্ষুন্ন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে বন বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকার আগামী তিন মাসের মধ্যে কর্তন নিষিদ্ধ ও অনুমতিযোগ্য বৃক্ষের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে বলে এই অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণে জেল-জরিমানার কঠোর বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি
১২৪
পূর্ববর্তী পোস্ট