নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কেওয়ার ঢালী বাড়ি বাজারে স্মার্ট লুক নামীয় জেন্টস পার্লারে রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উক্ত বাজারের দারোয়ান উত্তর মহাকালীর মৃত জলফু শেখের পুত্র ইউসুফ শেখ (৬০) ও নাজির দেওয়ানের পুত্র সামেদ দেওয়ান (৪০) জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন জেন্টস পার্লারের মালিক মোঃ সুজন আলী। জড়িত থাকার সন্দেহে ইউসুফ ও সামেদকে অভিযুক্ত করে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী সুজন। ক্ষতিগ্রস্ত সুজন এখানে ভাড়া বাসায় থেকে গত ৮ মাস যাবৎ জেন্টস পার্লারের ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা। কেওয়ার এলাকায় ঢালী বাড়িতে ভাড়া থাকেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পার্লার ব্যবসায়ী সুজন জানান, কেওয়ার ঢালী বাড়ি বাজারে স্মার্ট লুক নামীয় জেন্টস পার্লার রয়েছে। গত ৭/৮ মাস যাবৎ উক্ত বাজারে দোকান ভাড়া নিয়ে পার্লারের ব্যবসা করে আসছি।
পার্লারের মালিক ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আমার জেন্টস পার্লারের দোকান বন্ধ করে আমিসহ আমার দুইজন কর্মচারী ভাড়াটিয়া বাসায় চলে আসি। পরদিন ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটের সময় উক্ত বাজারের দারোয়ান ইউসুফ শেখ ও সামেদ দেওয়ান আমার ভাড়াটিয়া বাসায় এসে আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বলে, তোমার দোকানের তালা খোলা। খবর পেয়ে সাথে সাথে দারোয়ানসহ আমি আমার নিজ দোকানে গিয়ে দেখি, দোকানের তালা খোলা ও শার্টার নিচে নামানো। দোকানের শার্টার উঠিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে লাইট অন করে দেখি, পার্লারের মালামালগুলো এলোমেলো করা। পরবর্তীতে দেখি, আমার পার্লারের ক্যাশ বক্স খোলা। ক্যাশ বক্সে থাকা কিস্তিতে উঠানো ১ লক্ষ টাকা এবং ব্যবসার ৮ হাজার টাকা, চুল কাটার ১৭টি মেশিন যার মূল্য আনুমানিক ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্রান্ডের ফেসিয়াল ১৯ পিস যার মূল্য আনুমানিক ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা, ১টি আইপিএস যার মূল্য আনুমানিক ৬৫ হাজার টাকা সর্বমোট ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকাসহ আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা আমার পার্লারের শার্টারের তালা ভেঙ্গে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে চুরি করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চুরি হওয়া টাকা-পয়সা ও মালামাল বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও কোনো সন্ধান পাইনি। আমার ধারনা, ২৪ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা হতে ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট সময়ের মধ্যে যেকোন সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা উক্ত চুরির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। উল্লেখ্য, কিস্তিতে টাকা উঠানোর বিষয়টি বাজারের দারোয়ানরা অবগত ছিল। আমার সন্দেহ, আমার পার্লারে চুরি হওয়ার ঘটনার সাথে বাজারের দারোয়ান ইউসুফ শেখ ও সামেদ দেওয়ান জড়িত থাকতে পারে। ঘটনাটি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবগত করি। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজনদের সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করি। আমার প্রত্যাশা, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে মূল রহস্য উদঘাটন করবে এবং চুরি হওয়া টাকা-পয়সাসহ মালামাল উদ্ধার করবে। আমি এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করছি। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জে স্মার্ট লুক নামীয় জেন্টস পার্লারে রহস্যজনক চুরি॥ সন্দেহের তীর বাজারের দারোয়ানের দিকে
২৬