ডেস্ক রিপোর্টঃ ইসরায়েলি বাহিনী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে। এ হামলা আজ সোমবার ভোরে চালানো হয় বলে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে। সিরীয় নাগরিক খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ নিহতদের মধ্যে একজন, এমনটাই জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করে, এ হামলা চালানো হয়েছে লেবাননে অবস্থানরত প্যালেস্টিনিয়ান ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে)-এর সদস্যদের লক্ষ্য করে। তবে ইসরাইল এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।
এই হামলা চালানো হয় লেবাননের মাজদাল আঞ্জার এলাকায়, এমনটাই দাবি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি পিআইজে।
পিআইজে একটি সশস্ত্র সংগঠন, যারা গাজায় ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে হামাসের সঙ্গে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও সংগঠনটি পরিচিত।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় ২০২৪ সালের নভেম্বরে। কিন্তু ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গত এক বছরে ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু সহ এসব হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ১১ জন লেবানিজ বেসামরিক নাগরিককে অপহরণ করেছে।
গত মাসে লেবানন বারবার হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দেশটি আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ ও লেবানন থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার। লেবাননের অভিযোগ, ইসরাইল শুধু ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসেই দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে অন্তত দুই হাজার ৩৬ বার। পাশাপাশি ইসরাইল এখনও দখল করে রেখেছে লেবাননের পাঁচটি সীমান্ত এলাকা। যার ফলে বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষের ঘরে ফেরা ও সীমান্তবর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রাম পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
