নিজস্ব প্রতিবেদক : মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়ায় চিহ্নিত নৌ-ডাকাত নয়ন-পিয়াসের স্বজনরা এক বিতর্কিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিয়মিত অভিযানের সমালোচনা এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই মানববন্ধন নিয়ে পুরো এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই মানববন্ধনকারীরা চলে যায়।
গতকাল রোববার বিকেল ৪টায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
খবর নিয়ে জানা যায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর হামলায় কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ এবং শরীফ প্রধান (৪১) নামে তার এক আত্মীয় আহত হন। কাইয়ুম দেওয়ান এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য নিজের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন যা ডাকাত বাহিনীর রোষানলে পড়ার মূল কারণ বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সক্রিয় হলে ডাকাত সদস্যদের স্বজনরা পাল্টা চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্র ও গুলিসহ আটককৃত নৌ-ডাকাত মনির হোসেনের বড় ভাই আওলাদ হোসেন ও বাবা জুলহাস সরকার। এছাড়া র্যাবের হাতে আটককৃত ডাকাত আক্তারের স্ত্রী রিনা বেগমসহ ডাকাত বাহিনীর প্রধান নয়নের বোনকেও সেখানে দেখা যায়।
বক্তব্যে আওলাদ হোসেন অভিযোগ করেন, “আমার ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে অস্ত্র দিয়ে সাজানো মামলায় চালান দেওয়া হয়েছে। আমরা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই।” মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সিরাজুল ইসলাম নামে একজন বলেন, ‘ঐ দিনের ঘটনার সাথে আমি জড়িত ছিলাম না; কিন্তু পূর্বশত্রুতার জের ধরে কাইয়ুম দেওয়ান মামলায় আমার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা এলাকায় শান্তি বিনষ্ট করতে চায় এবং পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করে অস্ত্র দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দেয়।’
এদিকে গজারিয়া সেনা ক্যাম্পের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী শতভাগ স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযান চালিয়ে নৌ-ডাকাত নয়ন-পিয়াস বাহিনীর সহযোগী মনির হোসেনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী ডাকাত দলের বিভিন্ন আস্তানায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ০১টি দেশীয় শটগান ও ০৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ০৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে ০২ রাউন্ড গত বছরের ০৫ আগস্ট থানা লুটের ঘটনায় লুণ্ঠিত গুলি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গজারিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন বলেন, ‘মানববন্ধনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল তবে পুলিশ গিয়ে কাউকে পায়নি।’
প্রসঙ্গতঃ চলতি মাসের ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে নয়ন-পিয়াস বাহিনীর সদস্যদের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধসহ দুইজন আহত হন। আহতদের একজন কাইয়ুম দেওয়ান (৪২)। তিনি গুয়াগাছিয়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বাড়িভাড়া দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তার আত্মীয় শরীফ প্রধানও (৪১) আহত হন।