প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৩০ পিএম
1
বুধবার ০৩, জুন ২০২৬ -- : -- --
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বিচার সালিশে ছুরিকাঘাতে আহত হযরত আলীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবি ও ভুক্তভোগী পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের মিয়ামী হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী হযরত আলীর স্ত্রী রুবিনা আক্তার।
এসময় তিনি বলেন, গত ১৯ মে সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিচার সালিশ চলা অবস্থায় আমার স্বামীকে এলোপাথারি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে থানায় মামলা দায়ের করি। কিন্তু ঘটনার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি; উল্টো আমাদের হয়রানি করার জন্য কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে- যেখানে বাড়ির পুরুষদের সাথে নারীদেরও আসামি করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে হয়রানি থেকে বাঁচতে এখন ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে নানা স্থানে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। আমরা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাই।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কন্ঠে হযরত আলীর মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে বিদেশ থেকে দুই মাসের ছুটিতে এসে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। ছোট নাতিটা বাবাকে খুঁজছে। আমাদের বাঁচান বাবা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন হযরত আলীর স্ত্রী রুবিনা আক্তার, মা রোকেয়া বেগম, বোন নার্গিস আক্তার, চাচা আরশাদ আলী, চাচী পারুল আক্তার, বড় ভাবী শাহিনুর আক্তার, সোনিয়া আক্তার প্রমুখ।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আলী বলেন, আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে রয়েছি। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য একাধিকবার অভিযান দিয়েছি। কিন্তু তারা এলাকায় নেই। তাদের আটকে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী আতিক নগর এলাকায় শাহাজাহান গং ও আরশাদ আলী গংয়ের মাঝে সীমানা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চলা বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশ চলছিল। হঠাৎ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষ মারামারি লেগে যায়। সেখানে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হযরত আলী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানা যায়।