বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬

বৃহস্পতিবার ২৩, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --

গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

2

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে একটি কেন্দ্রের অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, সারাবছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিলেবাসে পড়ানো হলেও পরীক্ষায় তাদের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে ভিন্ন সিলেবাসে। এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত না থাকায় পরীক্ষা খারাপ হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
খবর নিয়ে জানা যায়, গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে এ বছর ২৮ জন শিক্ষার্থী অনিয়মিত হিসেবে পরীক্ষা দিচ্ছে, যারা গত বছর নির্বাচনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও এ বছর পাশ করে ফরম পূরণ করেছে। এদের মধ্যে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছে ৮ জন। 
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা অনিয়মিত হলেও তাদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সিলেবাস অনুযায়ী পড়ানো হয়েছে। এমনকি টেস্ট এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষাও হয়েছে নিয়মিতদের প্রশ্নেই। অনিয়মিতদের জন্য ভিন্ন প্রশ্ন হয় এ বিষয়টি তারা জানতেন না। পরীক্ষার হলে প্রশ্ন দেখে সাথে সাথে অনেক শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। প্রস্তুতির সাথে প্রশ্নের কোনো মিল নেই।
এ বিষয়ে পরীক্ষার পর দিন গতকাল বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিষ্ঠানে গেলে শিক্ষকরা অসহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে তারা বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘পরীক্ষার হলে প্রশ্ন হাতে পেয়ে দেখি কিছুই কমন পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাই। পরদিন বুধবার সকালে এ বিষয়ে জানতে স্কুলে গেলে প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি আমার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’ 
আরেক শিক্ষার্থী সঙ্গীতা দাস বলেন, ‘আমরা অনিয়মিত শিক্ষার্থী এবং আমাদের ভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে কখনোই জানানো হয়নি। শিক্ষকরা কেন আমাদের আগে অবগত করলেন না? আমরা যদি অকৃতকার্য হই তবে এর দায় শিক্ষকদেরই নিতে হবে।’
অভিভাবক রাজিয়া বেগম বলেন, ‘যেহেতু আমার সন্তানের প্রস্তুতি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মতো ছিল, তাই ২০২৫ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে সে পাশ করতে পারবে বলে মনে হয় না। তার পরীক্ষা যেন নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রেই নেওয়া হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। তবে এ ব্যাপারে আমার করার কিছু নেই। শিক্ষার্থীরা কেন ভুল বুঝলো আর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন তাদের বোঝাতে পারল না -এর দায় তাদেরই। আমি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের কথা শুনে যা বুঝলাম, তারা যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে নিয়ম অনুযায়ী সেটি ঠিক আছে। তবে তাদের অভিযোগ ছিল তাদের নিয়মিত সিলেবাসে পড়ানো হয়েছে অথচ প্রশ্ন এসেছে ভিন্ন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল।’

Link copied!