প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
5
শুক্রবার ১৭, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নে তিন ফসলি জমির উপরিভাগের (টপ সয়েল) মাটি কাটার মহোৎসব চলছে বিরতিহীনভাবে। দিন-রাত সমানতালে ভেঁকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে সাবাড় করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেঁকু মেশিন জব্দ ও বিকলাঙ্গ করে দেওয়ার পরেও কমপক্ষে দশটি ভেঁকু মেশিন দিয়ে দ্বিগুণ হারে মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে।
সরেজমিনে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, ফসলি জমি থেকে গভীর গর্ত করে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ড্রাম ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। মাটিবাহী এসব ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে লতব্দী ইউনিয়নের পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ধূলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে জনজীবন।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রভাবশালী একটি চক্র সাধারণ কৃষকদের ভয় দেখিয়ে জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। একজনের জমির মাটি কাটলে পাশের জমির মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় অন্য কৃষকরাও বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে করে আবাদি জমি চিরতরে উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে।
এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নিজে ঘটনাস্থলে মাটির কাইটে এসে গ্রামবাসীদেরকে সাথে নিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে সম্পূর্ণ নিষেধ করলেও কোন প্রকার তোয়াক্কা করেনি মাটি ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, মাটি কাটা বন্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। কিছু আসামী গ্রেফতার হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে যারা মাটি কাটার সাথে জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।