প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
1
মঙ্গলবার ২১, এপ্রিল ২০২৬ -- : -- --
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নে প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক অন্যের ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা তাদের আবাদি জমি হারাচ্ছেন, অন্যদিকে বড় বড় গর্তের কারণে পাশের জমি ও রাস্তাঘাট ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লতব্দী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণদী গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে ভেঁকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। জমির মালিকরা বাধা দিলেও কোনো তোয়াক্কা করছে না মাটিখেকো চক্রটি। বরং বাধা দিতে গেলে জমির মালিকদের প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী এক জমির মালিক আলেহা বেগমের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, “আমার মায়ের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে আমাদের অনুমতি ছাড়াই রাতের বেলা মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাদেকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়। দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের জমির মাটি কেটে নেওয়ার পায়তারা করছেন লতব্দী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন খান খোকন, মিজানুর রহমান ভূইয়া, সজিব ঢালী, কামাল মাদক, বাদশা মিয়াসহ আরো ৮/১০ জন। কিছুদিন আগে এদের বিরুদ্ধে মাটি বালু মহল আইনে মামলা করেছে সেই মামলায় শামসুদ্দিন খান খোকন ও সহযোগী জেল খেটে এসেছেন। এখন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে তারা। প্রশাসনের ভয়ে তারা দিনের বেলায় অন্য জায়গায় মাটি কেটে রাত ১০টার পর থেকে আমাদের জমি থেকে মাটি কাটে ভোররাত পর্যন্ত। এখন আমার জমিটি একটি বিশাল গর্তে পরিণত হয়েছে, যা চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাগুলো ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই রাতের এই সময়টি বেছে নিয়েছে চক্রটি।
এ বিষয়ে লতব্দী ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত এই মাটি কাটা বন্ধ না হলে এলাকায় বড় ধরনের ধস ও কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে।
সিরাজদিখান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং ফসলি জমি নষ্ট করার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।