প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
123
রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়ন ও গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ৬ কিলোমিটার পদ্মা নদীর তীরবর্তী স্থানে স্থায়ী বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়নে নদীর তীরে ব্লক পাথর দিয়ে স্থায়ী বাঁধ দেওয়া হলেও এখানে আমাদের এলাকায় কাজে বৈষম্য করা হয়েছে। আমাদের তীরবর্তী এলাকায় পদ্মা নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। বর্ষায় ভাঙ্গন কি রূপ ধারণ করে একমাত্র আল্লাহই জানে আমাদের ভিটেমাটি হারাতে হয় কি না।
গতকাল বুধবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ও গাঁওদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে কিছু অংশে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছে। তবে দুই ইউনিয়নের বেশ কিছু অংশে শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ দেয়া হয়েছে। তবে ব্লক পাথর নেই। বর্তমানে বর্ষার মৌসুম এখনো কম পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি বেশি বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে। এছাড়া হুমকির মুখে পড়বে শতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষায় তীব্র স্রোতে নদীর তীরের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অসহায় মানুষ নদীর দিকে তাকিয়ে রয়েছে। দুইটি স্থানে অন্তত ২০টি পরিবার টিন, কাঠ ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নদীগর্ভে সবকিছু বিলীন হওয়ার আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
গাঁওদিয়া গ্রামের সোহেল, আইয়ুব আলী, শাহ কামাল ও হোসেন মোড়ল জানান, গত কয়েক বছরে তিনবার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি যা ছিল তা নদীতে চলে গেছে। এবার ভাঙনে ঘরবাড়ি তোলার জায়গাও অবশিষ্ট নেই। খোলা জায়গায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।
নদী ভাঙন নিয়ে কথা হয় বেজগাঁও গ্রামের বিল্লাল, কালাম, জুয়েল, আলী ও আবুল খাঁ’র সঙ্গে। তারা জানান, পানি কমার সময়ও নদী ভাঙে, বাড়ার সময়ও ভাঙে। এই পর্যন্ত তিন-চারবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। এবারও ভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ত্রাণ দিলে সমস্যার সমাধান হবে না, তাদের দরকার নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, নদী ভাঙলে মানুষ যে কতটা অসহায় হয়ে যায়, তা নিজের চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বসতভিটা নদীতে চলে না যাওয়ার জন্য বেজগাঁও এবং গাঁওদিয়া পদ্মা নদীর তীরে ভাঙনের স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী।