রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬

রবিবার ১৯, জুলাই ২০২৬ -- : -- --

সিরাজদিখানে রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার ॥ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

24

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ৫০ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির পাশের একটি রান্নাঘরের প্রায় ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিরাজদিখান উপজেলার উত্তর চাইনপাড়া এলাকার মানিক বেপারী, রংপুর জেলার পশ্চিম রাজেন্দ্রপুর কানপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম, সিরাজদিখান উপজেলার চাইনপাড়া এলাকার রিপন ও চাইনপাড়া এলাকার বিন আমিন শেখ।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মে আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হন। পরে ২৩ মে তার ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘদিন অনুসন্ধানের পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আওলাদ হোসেনের ভায়রা খায়ের বেপারীর বাড়ির রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম জানান, তদন্তে জানা যায়, আওলাদ হোসেনের প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর রানী বেগমকে বিয়ে করেন। রানী বেগম ও আওলাদের সংসারে কোন সন্তানাদি না হওয়ায় প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো। আসামী মানিক বেপারী (৩০), রানী বেগমের ভগ্নিপতি। মানিক বেপারী বিভিন্ন সময় আওলাদ হোসেন এর কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিতেন মর্মে জানা যায়। মানিক বেপারী ও রানী বেগম আওলাদ হোসেনকে তার জমি-জমা রানী বেগমের নামে লিখে দিতে চাপ প্রয়োগ করতেন। কিন্তু আওলাদ হোসেন জমি-জমা লিখে দিতে অস্বীকার করতেন এবং আরেকটি বিয়ে করবেন বলেও জানান। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মানিক বেপারী ও রানী বেগম আওলাদ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারই ধারিবাহিকতায় ঘটনার দিন গত ৯ মে  সন্ধ্যার পরে মানিক বেপারী আওলাদ হোসেনকে চাইনপাড়ায় বোরহান বেপারীর গরুর ফার্মে ডেকে নিয়ে যায়। গরুর ফার্মের ঘরে এসময় বোরহান বেপারীর কাজের লোক সাইফুল ইসলাম এবং মানিক বেপারী উপস্থিত ছিলেন। আওলাদ হোসেনকে বিছানায় ফেলে সাইফুল ইসলাম মাথা চেপে ধরেন এবং মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এসময় বাইরে বিন-আমিন এবং রিপন পাহারায় ছিলেন। হত্যার পর সাইফুল ইসলাম, বিন-আমিন এবং রিপন গরুর ফার্মের রান্নাঘরে গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় আটককৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং আদালতে স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে।

Link copied!